অবশেষে! হলাম টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার! – স্বপন মিয়া | Techtunes

ইন্টারনেট ইলেক্ট্রনিক্স কম্পিউটার কম্পিউটার ও ল্যাপটপ জানুন প্রযুক্তি


আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন আপনারা? আশাকরি সকলেই অনেক অনেক ভালো আছেন। দেশের ১ নম্বর সর্ববৃহৎ প্রযুক্তি বিষয়ক নেটওয়ার্কের সাথে নিজেকে একজন বিশ্বস্ত মানুষ হিসাবে তুলে ধরতে পেরে সত্যি আজ আমি অনেক গর্বিত। আজকের গর্ব, আমার আজকের অর্জন মোটেও সহজ কোনো বিষয় ছিল না। তবুও টেকটিউনসের সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আজ আমি টেকটিউনসের একজন ট্রাস্টেড টিউনার।

আজকের টিউনের মাধ্যমে আমি আমার টেকটিউনসের ট্রাস্টেড টিউনারশীপ পাওয়ার সকল রোমাঞ্চকর, হার্ডবিড বেড়ে যাওয়া মুহূর্তগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। সেই সাথে আমার নিজের ব্যক্তিগত পরিচয় আপনাদের মাঝে তুলে ধরার চেষ্টা করবো। আপনারা যারা টেকটিউনসে নতুন লেখালেখি শুরু করবেন ভাবছেন তাদেরকেও সম্পূর্ণ লেখার মাঝে মাঝেই অনুপ্রেরণা দেওয়ার চেষ্টা করবো। তো চলুন আর বেশি কথা না বাড়িয়ে প্রথমে আমি কে? কি করি? দিয়েই শুরু করা যাক।

আমি কে? কী করি?

টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার হওয়ার রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করার আগে আমার পরিচয়টি দিয়ে নেই। আমি মোঃ স্বপন মিয়া। জন্ম গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানার ছোট্ট একটি গ্রামে। যদিও গ্রামটি আমার খুব প্রিয় তবুও গ্রামটি অনেক ছোট কারণ আমি যে ছোটবেলায় সেই সারা গ্রাম একদিনেই ঘুরে বেড়াতাম। ছোট্ট থেকেই সেই গ্রামে বড় হয়েছি। গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি।

তারপর ছোট বয়সে তেমন কিছু বুজতাম না। বাবা, মা আমার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমাকে ভর্তি করালেন আমাদের গ্রামের পার্শ্ববর্তী গ্রামের একটি উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে। স্কুল জীবনের মুহুর্তগুলো বর্তমানে শুধুই একটি স্বপ্ন ১৫ টাকা দিয়ে বল কেনার জন্য ২০ জন মিলে টাকা জোগাড় করতাম। সেই সময়ে অনেক ভালো রেজাল্ট নিয়েই উচ্চমাধ্যমিক স্কুল সম্পূর্ণ করি। যদিও পড়াশোনায় তেমন মন বসতো না হাতের কাছে কোনো জিনিস থাকলেই সেটা নিয়ে ম্যাকারি শুরু করে দিতাম। তবুও আলহামদুলিল্লাহ ভালোভাবেই কেটে গেলো স্কুল জীবন।

এবার জীবনে ভালো কিছু করতে হবে এমন চিন্তাভাবনা নিজের মাথায় আসতে শুরু করলো। পরিবারের মানুষদের ভালো রাখতে হবে নিয়মিত এমন চিন্তাভাবনায় নিজে অনেক ডুবিয়ে থাকতাম। তারপর ভালো কিছু করার লক্ষ নিয়ে ভর্তি হলাম “ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার” সেকশনে। সেমিস্টার ফি নিজে কষ্ট করে কাজ করে জোগাড় করতাম। সেটা দিয়েই পড়াশোনার খরচ চালাতাম। অনেকেই বলবেন ভাইয়া আপনার কি বাবা নেই? বাবা, মা দুজনেই বেঁচে আছে ভাইয়া আলহামদুলিল্লাহ। তবে বাবার পারিশ্রমিক অনেক বেশি না হওয়ার কষ্টের সংসারে নিজের খরচ নিজে চালিয়েই নিজেকে অনেক খুশি রাখতাম।

জীবনে ভালো কিছু করার স্বপ্ন ছিল তবে হয়ত ভাগ্য আমার সাথে ছিল না। ডিপ্লোমা কমপ্লিট করলাম একটি চাকরির জন্য অনেক ঘুরলাম কোথাও চাকরি পেলাম না। দিনশেষে ভাবলাম চাকরি আর খুঁজবো না। আব্বুর কাজে সাহায্য করবো এতেই আমাদের সংসার মহান আল্লাহ তায়ালা অনেক ভালো চালাবেন ইনশাআল্লাহ। আমার আব্বু কাঠের মিস্ত্রি, বিষয়টি আরো একটু ক্লিয়ার করে বললে বুঝতে পারবেন। আপনি হয়ত কাঠের চেয়ার, টেবিল, খাট ইত্যাদি বানানো দেখছেন। আমার আব্বু মূলত গাছ দিয়ে এসব জিনিস বানায় বর্তমানে আমি সেখানেই আমার আব্বুর সাথে কাঠের জিনিস বানানো কাজগুলো করি।

কন্টেন্ট রাইটিং করতে যে কারণে ভালো লাগে

ছোট্টবেলা থেকেই আমি ছিলাম নিউটনের মতো। তবে কখনো নিউটনের মতো মাথায় তাল পড়তো না। ছোটবেলা থেকেই অর্থ সংকট থাকার কারণে বাজার থেকে খেলনা কিনে নিজের শখ মিটাতে পারতাম না। যার কারণে সাথের কোনো বন্ধু খেলনা কিনলে সেটা দেখে হুবহু সেই খেনলার মতো মাটি দিয়ে, বাঁশ দিয়ে অথবা কাঠ দিয়ে সেই খেলনা বানাতাম। আর বন্ধুদের সেই খেলনা দিয়ে নিজেকে একজন নেতার মতো ভাবতাম।

স্বভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এখন টেকনোলজি বিষয়ে নতুন কিছু করতে পারলে, নতুন কিছু জানতে পারলে তা অন্যকে শেখাতে অনেক বেশি ভালো লাগে। নতুন কিছু শিখতে পেরে আপনারাও আমাদের ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে রাখেন। আর এই ভালোবাসার কারণেই রাইটিং করে আপনাদের নতুন কিছু শিখাতে অনেক ভালো লাগে। আশাকরি আপনাদের থেকে এমন ভালোবাসা সারাজীবন পাবো।

যে ধরনের কন্টেন্ট আমি লিখে থাকি

সেই ছোট্টবেলা যখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতাম তখন ছোট্ট একটি বাটন ফোন ব্যবহার করতাম। ফোনটির নাম ছিল Microwmax হয়ত আপনারাও এই ফোনটি দেখে থাকবেন। ফোনটির মডেল কত ছিল তা সঠিক আমার মনে নেই। সেই ফোনে নেটওয়ার্ক পেত ” E ” ইন্টারনেট ব্রাউজিং করার জন্য আলাদা একটি ব্রাউজিং অপশন ছিল। ১ টাকা দিয়ে প্রায় ৩ এমবি পেতাম। সেই ৩ এমবি দিয়েই মাঝে মাঝে শখের বসে ইন্টারনেট ব্রাউজ করতাম। যদিও সেই সময় ইন্টারনেট সম্পর্কে তেমন কিছু জানতাম না। তবুও মাঝে মাঝে ইন্টারনেট ব্রাউজিং করতাম।

এভাবেই আস্তে আস্তে পরিচয় হলাম গুগলের সাথে। ইন্টারনেট সম্পর্কে একটু একটু জানতে শুরু করলাম। ইচ্ছামতো এটা ওটা প্রশ্ন লিখতাম সেটার সুন্দর করে গোছানো উত্তর গুগল থেকে পেতাম। যারা কারণে ইন্টারনেটের এমবি কেনার খরচ দিন দিন বাড়তেই থাকলো। এভাবেই গুগল মামার থেকে আমার ইন্টারনেটে জ্ঞান অর্জন করা শুরু হলো। বর্তমানে আমি টেক বিষয়ক, ওয়েবসাইট ডিজাইন (সাধারণ), সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, সহ অনলাইনে প্রায় সকল বিষয়ে আর্টিকেল লিখতে পারদর্শী। বর্তমানে প্রযুক্তির আরো উন্নয়নের ফলে আমার মেধা হয়ত আরো বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে তবুও নিজের জ্ঞানের পরিধি আরো বাড়িয়ে তোলার জন্য নিয়মিত টেকটিউনসে ভিজিট করি।

টেকটিউনস এর সাথে যেভাবে পরিচিত হলাম

প্রযুক্তির নিয়মিত উন্নয়নের ফলে নেটওয়ার্কের পরিবর্তন আসে। নেটওয়ার্ক “E” থেকে “G” হয়। সেই সাথে নতুন নেটওয়ার্ক সার্পোটেড ডিভাইস নিয়ে বাজারে আসে Nokia যা দ্বারা আপডেট নেটওয়ার্কে আগের তুলনায় অনেক বেশি দ্রুত ইন্টারনেট ব্রাউজ করা সম্ভব হচ্ছিলো। নিয়মিত নিজের বা কারো শোনা সমস্যাগুলো ইন্টারনেটে সার্চ করে খুঁজতে থাকতাম পড়তে থাকতাম। সমস্যা আর সমাধান দুটোই বুঝতে চেষ্টা করতাম। একদিন হঠাৎ ফোনের ইন্টারনেট আর চলতেছিলো না। নতুন অজানা এক সমস্যায় পড়ে গেলাম। সমাধান খুঁজতে সবার আগে মাথায় আসলো গুগল মামার কথা। অন্য এক বন্ধুর ফোন নিয়ে গুগলে সার্চ করলাম “ইন্টারনেট চলে না উপায় কি” উত্তর পেলাম “Apn Setting” নিয়ে।

লিংকে ভিজিট করলাম দেখলাম “Techtunes” নামের ভালোই একটি ওয়েবসাইট। “Apn Setting” দেখার পর আমার ফোনের ইন্টারনেট সমস্যা ঠিক করলাম। তারপর সিমে এমবি তুলে “Techtunes” ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলাম। দেখি আগেও নিয়মিত ভালো ভালো ইন্টারনেট সম্পর্কে নতুন নতুন টেকনিকগুলো আলোচনা করা। সেগুলো বন্ধুদের বলতাম, দেখাতাম, তাদের ফোনের সমস্যা ভালো করে দিতাম। তারাও আমার গোপনীয় ট্যালেন্ট দেখে অবাক হয়ে যেতো। সেসময় “Techtunes” ফ্রি ইন্টারনেট অফারগুলো নিয়ে অনেক বেশি টিউন হতো। যার কারণে নিয়মিত টেকটিউনসে ভিজিট করতাম। এভাবেই গুগল মামার দ্বারাই আমার জীবনের প্রথম সাফল্যমণ্ডিত সাক্ষাৎ হয়েছিলো টেকটিউনস এর সাথে।

টেকটিউনসে ট্রাস্টেড টিউনার হবার সিদ্ধান্ত যেভাবে নিলাম

নিয়মিত ইন্টারনেট সম্পর্কে নতুন নতুন আপডেট তথ্য পেতে দিনে প্রায় ৪ থেকে ৫ বারের বেশি টেকটিউনস ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতাম। টেকটিউনসে অ্যাকাউন্ট করে টিউন করতে হয় এই সম্পর্কে কোনো জ্ঞান আমার মাঝে ছিল না। একদিন হঠাৎ টেকটিউনস ওয়েবসাইটে একটি টিউন দেখি, টিউন শিরোনাম ছিল “টেকটিউনস লেখালেখি করেই মাসে ইনকাম করুন হাজার হাজার টাকা” প্রিয় ওয়েবসাইট নিয়ে এমন শিরোনাম থাকলে কে না পড়তে চাইবে! সবার মতো আমিও অনেক আগ্রহ নিয়ে সম্পূর্ণ টিউন পড়া শেষ করলাম। টিউন পড়ে মূল একটা কথাই বুঝতে পারলাম “টেকটিউনসে টিউন লিখেও ইনকাম করা যায়” তারপর থেকেই খুঁজতে থাকলাম টেকটিউনস টিউন লেখার উপায়।

শুধু মাত্র লেখালেখি করেই টেকটিউনস থেকে ইনকাম করা যায়। বিষয়টি আমার কাছে ইন্টারেস্টিং লাগলো। আমিও টেকটিউনস থেকে ইনকাম করতে চাইলাম। যেহেতু ছোট্টবেলা থেকেই নতুন কিছু অন্যকে শেখানোর মাঝে অনেক বেশি ভালো লাগা কাজ করতো। তাই ভাবলাম আমার লেখা কন্টেন্ট গুলো অনেক মানুষ পড়বে নতুন কিছু জানবে তারাও হয়ত ভাবতে থাকবে “স্বপন” ভাই হয়ত আজকে ভিন্ন কিছু শেখাবেন। আসলে অডিয়েন্সদের ভালোবাসা আর সেই সাথে টেকটিউনস থেকে ইনকাম করে নিজের হাত খরচ চালাতে পারবো এমন আশা নিয়েই “টেকটিউনসে ট্রাস্টেড টিউনার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম” যাতে শুধুমাত্র লেখালেখি করে টেকটিউনস থেকে আমার নিয়মিত হাত খরচের টাকা ইনকাম করতে পারি।

টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার হবার কাজ যেভাবে শুরু করলাম

টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার হবো, কিন্তু কীভাবে হবো সেই চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগলো। সব কিছু ভেবে যা জানি তা নিয়ে নিজেই শুরু করলাম ট্রাস্টেড টিউনার হওয়ার কঠিন যাত্রা। তারপর সব কিছু ঘাঁটাঘাঁটি করে জানতে পারি টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার হিসাবে টিউন লিখতে হলে আগে টেকটিউনস অ্যাকাউন্ট করে নিতে হয় তারপর লেখা টিউন পাবলিশ করতে হয়৷ তো বরাবরের মতো আমিও টিউন লিখে পাবলিশ করলাম। আমার অ্যাকাউন্টে জেমস জমা হলো। আমিতো জেমস দেখে মহা খুশি! ভাবলাম হয়ত আমার টিউনটির জন্য আমাকে টাকা দিলো। তারপর আস্তে আস্তে নিজের মাথায় জ্ঞান আসতে শুরু হলো। জেমস আর টাকায় পরিবর্তন করতে পারছিলাম না। তারপর টেকটিউনস “ডেস্কে” লিখলাম “জেমস কীভাবে টাকায় পরিবর্তন করে টেকটিউনস থেকে ইনকাম করবো?” টেকটিউনস উত্তর দিলো, জেমস কে টাকায় কনভার্ট করা সম্ভব নয়। টেকটিউনস থেকে ইনকাম করতে হলে আপনাকে অবশ্যই “টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার হতে হবে।

এবার সবকিছু বুজে আমার মাঝে শুরু হলো টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার হওয়া ইচ্ছা৷ কারণ ট্রাস্টেড টিউনার ব্যাজ আমার চাই তো চাই ব্যাস। আবারো আমার অ্যাকাউন্টে ১০ টি টিউন করলাম। টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার হওয়ার আবেদন “ডেস্কে” করলাম। আমার টিউনগুলোতে অনেক বেশি ভুল থাকার কারণে টেকটিউনস সেই আবেদনটিও রিজেক্ট করে দিলো। এবার আমার মাঝে টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার হওয়া শুধুমাত্র একটি স্বপ্ন নয় সেটি জেদে পরিণত হলো। আমি টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার ব্যাজ নিয়েই ছাড়বো। শুরু হলো মিশন ২.০ অভিযান, টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার গাইডলাইন পড়া। টেকটিউনস গাডলাইন অনুযায়ী সর্বশেষ ১০ টি টিউন সকল নিয়ম মেনে করলাম তারপর আবারো ডেস্কে “টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার আবেদন” করলাম। এবার প্রথম আবেদনেই টেকটিউনস আমাকে অভিনন্দন জানালো।

টেকটিউনসে ট্রাস্টেড টিউনার হতে যে যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেলাম

আমাকে অভিনন্দন দিলো, আপনি কি ভাবছেন আমি টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার হয়ে গেলাম? না মোটেও না। আমি ও ঠিক আপনার মতোই ভেবেছিলাম। আমার ২.০ মিশন তো সম্পূর্ণ করলাম সামনে এর থেকেও বড়ো মিশন আসতে চলছে সেটি তখনো বুঝতে পারিনি। কারণ টেকটিউনস টিম আমার টিউনগুলো রিভিউ করে বলছিলো আমার টিউনে “থাম্বেলিন, লিংক, সঠিক না হওয়া জনিত” বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। আমাকে আমার টিউনগুলো সংশোধন করার নির্দেশনা খুব তাড়াতাড়ি “কন্টেন্ট অপস টিম” থেকে দেওয়া হবে। আমার পরবর্তী মিশনের নাম কি দিবো সেটি আমি খুঁজেই পাচ্ছি না কারণ মিশনটি এত কঠিন ছিল যে অপারেশন সার্চলাইটের নাম দিলেও কম হয়ে যাবে।

আমার টিউনগুলো ট্রাস্টেড টিউনার হওয়ার গাইডলাইন অনুযায়ী হয়েও টিউনে অনেকগুলো ভুল ছিল। স্বাভাবিক ভাবেই নিজের ভুলগুলো নিজে বুঝতে পারি নাই। আমার টিউনগুলোতে কমন ভুলগুলো ছিলঃ

  1. টিউন থাম্বেলিন সঠিক ছিল না।
  2. টিউনে যোগ করা স্ক্রিন শটগুলোর সাইজ ঠিক ছিল না।
  3. টিউনে ইমেজ যোগ করার পর লাইন ব্রেক যুক্ত করিনি।
  4. টিউনে উপদেশ হিসাবে উপসংহার যা শেষ কথা দ্বারা হেডিং দিয়ে শেষ করতে হয় তা সম্পূর্ণ ছিল না।
  5. টিউনের মাঝেই লিংক ছিল, সুন্দর করে গোছানো ভাবে লিংক ছিল না।

আমার এই ভুলগুলো টেকটিউনস কন্টেন্ট অপস টিম কয়েকদিন ধরে ক্রমাগত নির্দেশনা দিয়েই যাচ্ছিলো। শেষে অনেক কষ্টের আমার টিউন থেকে এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে সফল হই। আমাকে আমার পুরো যাত্রায় টেকটিউনস থেকে ২ জন ট্রাস্টেড টিউনার অনেক বেশি সাহায্য করেছিলো।

  1. Md Atikur Islam (Vai)
  2. Mahfuz Alam Sadik (Vai)

আজকে আমার ব্যাজ পাওয়া মাঝে তাদের অনেকে অবদান আছে। দিনে কিংবা রাতে যখন “কন্টেন্ট অপস টিমের” কোনো নির্দেশনা বুজতাম না সাথে সাথে ভাইদের মেছেজ করতাম Md Atikur Islam ভাইকে রাত ১২ টা ১ টার পরেও জ্বালাতন করে বুজে নিতাম। স্পেশালি ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া।

টেকটিউনসে ট্রাস্টেড টিউনার হতে যে যে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হলাম এবং সে চ্যালেঞ্জ যেভাবে অতিক্রম করলাম

টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার হওয়ার জন্য আমার কাছে সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ ছিল “টেকটিউনস কন্টেন্ট অপস টিম”। আমি যখন টেকটিউনস গাইডলাইন অনুযায়ী ১০ টি টিউন সম্পূর্ণ করি আর ডেস্কে ” ট্রাস্টেড টিউনার আবেদন করি” তখন টেকটিউনস টিম আমার কন্টেন্ট গুলো সংশোধন করার জন্য “টেকটিউনস কন্টেন্ট অপস টিম” নিযুক্ত করা হয়। “টেকটিউনস কন্টেন্ট অপস টিমের” কিছু বৈশিষ্ট্য হলো আপনার প্রতিটি কন্টেন্ট এর সর্বোচ্চ ১৫ টার সংশোধন নির্দেশনা প্রদান করবে। আর যেগুলো অল্প সংশোধন প্রয়োজন সেগুলোর জন্য সর্বোচ্চ ৫ বার আপনাকে আপনার টিউন সংশোধন নির্দেশনা প্রদান করবে। মূলত এখানেই, নির্দেশনার নাম্বারেই আমার সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ ছিল। কারণ এই নিদিষ্ট সময়ের মধ্য আপনি আপনার টিউন সংশোধন করতে ব্যর্থ হলে আপনার “টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার” আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।

একবার ট্রাস্টেড টিউনার আবেদন বাতিল হয়ে গেলে সেই টিউনার পরবর্তী ২ মাসের আগে আর “টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার” আবেদন করতে পারবে না। আর আমার কয়েকটি টিউনের নির্দেশনা মাত্র ৫ টার টাইম দেওয়া হয়েছিলো। ইতিমধ্যে “টেকটিউনস কন্টেন্ট অপস টিম” নির্দেশনা ১, নির্দেশনা ২, নির্দেশনা ৩ এভাবে দেওয়া শেষ করছিলো আমার কাছে সুযোগ আছে আর মাত্র ২ টি। আপনি কি ভাবতে পারছেন সেই চ্যালেঞ্জিং বিষয়গুলো ১০০% সমাধান করা কতটা রিস্ক ছিল আর কতটা ভয়ের বিষয় ছিল। হাড় হিম করা সময় পার করছি “টেকটিউনস কন্টেন্ট অপস টিম” এর সাথে। সমস্যাগুলো সমাধান করা নিয়ে বারবার “”টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার গাইডলাইন” পড়তাম। কোনো বিষয় খুঁজে না পেলে বড় ভাইদের সাহায্য নিতাম। তবে টিউনের প্রায় সকল ভুলের সমাধান “টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার গাইডলাইন” পেজ থেকেই পেয়েছি। আগে থেকেই লেখালেখি নিয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞতা ছিল যার কারণে কাজগুলো বেশ সহজেই সম্পূর্ণ করতে পেরেছি।

টিউন তৈরির সকল কাজ করেছি মোবাইল দিয়ে

টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার হওয়ার জন্য অনেক লম্বা জার্নি করালাম। আপনারা এত কিছু পড়ার পর হয়ত ভাবছেন, আমার দ্বারা এসব হবে না কারণ আমার কম্পিউটার নাই, ডেক্সটপ নাই, ল্যাপটপ নাই আমি এসব কীভাবে করবো? আরেহহহ! দাঁড়ান ভাই চিন্তার কোনো কারণ নেই টেকটিউনস থেকে ইনকাম করতে চাইলে আপনার দামি ফোন, কম্পিউটার অথবা দামি ল্যাপটপের প্রয়োজন নেই। আপনি আরো জানলে অবাক হবেন যে, আমি “টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার হওয়ার” সম্পূর্ণ জার্নি আমার একটা পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস দিয়েই করেছি৷ ডিভাইসটির নাম “Redmi Go” RAM 1 GB ইন্টারনেটে সার্চ দিলেই বুঝতে পারবেন ডিভাইসটি কত পুরোনো। তাহলে ভাবুন তো আমি পারলে আপনি কেনো পারবেন না?

টেকটিউনস সম্পূর্ণ স্মার্টফোন ফ্রেন্ডলি ও স্মার্টফোন রেস্পন্সিভ হওয়ায় টিউন লিখা, টিউন এডিট, টিউন থাম্বনেইল তৈরি, টিউন ফরমেটিং, টিউন ইমেজ ইনসার্ট, টিউন ইমেইজ রিসাইজ সহ টিউন তৈরির যাবতীয় কাজগুলো আপনার হাতে থাকা মোবাইল ফোন দিয়েই করতে পারবেন। সবগুলো কাজ করার জন্য আপনার আলাদা এক্সট্রা কোনো ডিভাইসের প্রয়োজন নেই৷ “টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার গাইডলাইন” অনুযায়ী কীভাবে মোবাইল দিয়েই একটি আদর্শ মানের ইউনিক টিউন লিখবেন তা আপনারা এই নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। টিউনটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়লে টেকটিউনসে টিউন লেখার সম্পূর্ণ কাজগুলো আপনার হাতে থাকা মোবাইল ফোন দিয়েই করতে পারবেন। তো আর দেরি না করে আমার মতোই শুরু করুন “টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার” ব্যাজ পাওয়ার ২.০ মিশন।

টেকটিউনসে ট্রাস্টেড টিউনার হতে গিয়ে যে যে বিষয়গুলো আমার কাছে ভালো লেগেছে

টেকটিউনসে ট্রাস্টেড টিউনার হতে গিয়ে ভালো লাগার সেরা মুহূর্ত ছিল “টেকটিউনস কন্টেন্ট অপস টিম” এর সাথে কাটানো সময়গুলো। আমার টিউন এসইও, টিউন কোয়ালিটি, কীভাবে টিউন লিখলে টিউনের মান আরো বেশি উন্নত হয় ইত্যাদি বিষয় নিয়ে শিখতে পেরে আমার অনেক বেশি ভালো লেগেছে। এখানে চ্যালেঞ্জিং বিষয়গুলো অনেক বেশি ইন্টারেস্টিং ছিল। চ্যালেঞ্জ রেখে ভালোই করছে। সামান্য কিছু চ্যালেঞ্জ না থাকলে কাজ করে তেমন মজা পাওয়া যেতে না। বুদ্ধি খাটিয়ে চ্যালেঞ্জ সম্পূর্ণ করেছি, নিজে চেষ্টা করলেই প্রায় সবই সম্ভব। নিজের প্রতি এমন অনুপ্রেরণা বারাতে পেরে সত্যি টেকটিউনস টিমের কাছে আমি অনেক ঋণী।

মানব জীবনে ভালো কিছু করতে হলে অনেক কিছুই শিখতে হয়৷ অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। আমি পারবো, আমার দ্বারা হবে, “টেকটিউনস কন্টেন্ট অপস টিম” এই কথাটি আমার চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুজিয়ে দিয়েছে। সেই সাথে শুধু এখানের জন্য না। ভবিষ্যতে নিজের রাইটিং যোগ্যতার সাফল্য অনেক অংশেই বাড়িয়ে তুলেছে৷ কোথাও নতুন কিছু শিখতে পারার আনন্দ হাজার, কোটি টাকার থেকেও অনেক বেশি মূল্যবান। টেকটিউনস টিম আমাকে একজন আদর্শ টিউন রাইটার হিসেবে গড়ে তুলেছে। টেকটিউনস টিমের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। টেকটিউনসে ট্রাস্টেড টিউনার হতে গিয়ে নতুন নতুন বিষয়গুলো শিখতে পারার ব্যাপারটি আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছে।

সফলভাবে টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার হওয়ার পর আমার অনুভূতি

সফলভাবে টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার হওয়ার পর আমার অনুভূতি কেমন হচ্ছে তা আসলে লিখে বুঝানো সম্ভব না। হয়ত এখান থেকে ৫ তালা ১০ তালা বিল্ডিং বানানোর মতো অনেক বেশি টাকা ইনকাম করতে পারবো না। তারপরেও সংসারের আর্থিক অভাবের কারণে নিজের, ছোট বোনের, ছোট ভাইয়ের, মা-বাবার ছোট ছোট স্বপ্নগুলো পূরণ করতে পারবো। যেমন পাশের বাসায় ১ কেজি মাংস রান্না হলে আমি না হয় হাফ কেজি মাংস আমার ছোট ভাই বোনদের খাওয়াতে পারলাম। আসলে নিজের ছোট ছোট স্বপ্ন পূরণ করার উপায় “টেকটিউনস” এখন আমার হাতের মূঠোয় এই অনুভূতি যে কতটা আনন্দের সেটা আপনাদের বলে বোঝানো সম্ভব নয়।

টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার হবার পর আমার পরিকল্পনা

টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার হওয়ার পর আমার পরিকল্পনা সবার প্রথমে “টেকটিউনস” আমাদের পরিবারকে নিয়মিত আপডেট রাখবো। টেকটিউনসকে নিয়মিত আপডেট রাখার জন্য সপ্তাহে কমপক্ষে ৩ টি টিউন টেকটিউনসের সকল অডিয়েন্সদের উপহার দেওয়ার চেষ্টা করবো। আপনারা যেন টেকটিউনস থেকে নিয়মিত নতুন নতুন জিনিস শিখতে পারেন, জানতে পারেন এবং আপনারাও আমার মতো টেকটিউনস থেকে ইনকাম করার অথবা টেকটিউনসকে ভালো কিছু উপহার দিতে আগ্রহী হয়ে উঠেন। কর্মজীবনের সারাদিনের কাজের পাশাপাশি এখানে কিছু সময় দিয়ে নিজের হাত খরচ উঠানোর মতো আনন্দ কতটা তা লিখে বলে বোঝানো সম্ভব নয়। এভাবেই হাঁটি হাঁটি পায়ে একদিন অনেক বড়ো কিছু হবো ইনশাআল্লাহ।

শেষ কথা

সবশেষে একটি কথাই বলবো “টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার” ব্যাজ পাওয়া আমার কাছে একটি স্বপ্ন ছিলো। যা আমি আপনাদের ভালোবাসার টানেই পূরণ করতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ। আপনারাও টেকটিউনস থেকে নিয়মিত টিউন প্রকাশ করে ইনকাম করতে পারবেন। “টেকটিউনস কন্টেন্ট অপস টিম” আমার কাছে সেরা একজন শিক্ষক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কারণ “টেকটিউনস কন্টেন্ট অপস টিমের” গঠনমূলক শিক্ষা অনেকটাই মনোমুগ্ধকর। আপনারা যারা “টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার” ব্যাজ পেতে চাচ্ছেন তারা “টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার গাইডলাইন” ভালো করে পড়ে তারপর টেকটিউনসে টিউন লেখা শুরু করুন। আশাকরি আপনাদের সফলতা আমার মতো কঠিন হবে না। আপনাদের সবার জন্য শুভকামনা রইলো।

তো বন্ধুরা এই ছিল আমাদের আজকের টিউন “অবশেষে! হলাম টেকটিউনস ট্রাস্টেড টিউনার!” আশাকরি আজকের টিউনে আমি আপনাদের কিছুটা অনুপ্রেরণা দিতে পেরেছি। আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি দেখা হবে পরবর্তী টিউনে নতুন কোনো বিষয় নিয়ে ততক্ষণ সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এবং টেকটিউনস এর সাথেই থাকবেন। ধন্যবাদ!


#অবশষ #হলম #টকটউনস #টরসটড #টউনর #সবপন #ময় #Techtunes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *