১৬ টি একবারের সিদ্ধান্ত আপনার প্রডাক্টিভিটি বৃদ্ধি করবে ১০০ গুণ | Techtunes

ইন্টারনেট ইলেক্ট্রনিক্স কম্পিউটার কম্পিউটার ও ল্যাপটপ জানুন প্রযুক্তি


আসসালামু আলাইকুম টেকটিউনস কমিউনিটি, কেমন আছেন সবাই? আশা করছি ভাল আছেন। বরাবরেই মত আজকেও চলে এসেছি নতুন টিউন নিয়ে।

জীবনে উন্নতি এবং সফলতার মুলে রয়েছে সঠিক দিক নির্দেশনা, স্ট্রেটেজিক লাইফ স্টাইল, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারার ক্ষমতা। অহেতুক পরিশ্রম আপনার সফলতার কারণ হতে পারে না, সফল হতে হলে আপনাকে পরিশ্রম করার ক্ষেত্রেও সঠিক কর্মপন্থা অবলম্বন করতে হবে। পরিশ্রম করার চেয়ে আপনার প্রোডাক্টিভিটি কেমন সেটা নির্ণয় করা জরুরী। আপনি যত বেশি প্রোডাক্টিভ হতে পারবেন তত নিজের মধ্যে অগ্রগতি নিয়ে আসতে পারবেন। তো কিভাবে সঠিক কর্মপন্থা অবলম্বন করবেন কিভাবে সফলতা পাবেন এই বিষয় গুলো নিয়েই মূলত আজকের এই টিউন। আজকে আমি ১৬ টি মেথড বা হ্যাক নিয়ে আলোচনা করা যেগুলো আপনার প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে সাহায্য করবে।

১. কাজের জায়গায় বা ঘরে একটা হোয়াইট বোর্ড রাখুন

মনের মধ্যে এক বিষয় ঘুরাফেরা করা আর বাস্তবে বের করার মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। আপনার অন্যতম প্রোডাক্টিভিটি হ্যাক হতে পারে, আপনার পরবর্তী লক্ষ্য বোর্ডে লিখে ফেলুন। এই বোর্ড আপনার অফিস বা ওয়ার্কপ্লেসে হতে পারে। আপনি যখন এটি লিখে ফেলবেন তখন সেটা আপনাকে বার বার লক্ষ্যের কথা মনে করিয়ে দেবে।

কোন কিছু লিখে রাখলে সেটা এমনিতেই ব্রেনে দীর্ঘমেয়াদে সেভ থাকে। তাছাড়া নির্দিষ্ট সময় পর পর লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে সেটাও লিখে রাখতে পারেন। কাজের অগ্রগতি কেমন কোন জায়গায় উন্নতি করা দরকার এই সব কিছু যখন লিখে রাখবেন, তখন সেটা বুঝতে আপনার সহকর্মীদেরও সহজ হবে।

২. সব কিছু মনে রাখার দরকার নেই

এটা জরুরী না যে আপনাকে সব কিছু মুখস্থ রাখতে হবে। যেখানে আপনার জন্য বিকল্প রাস্তা রয়েছে সেখানে ব্রেনকে কেন শুধু শুধু চাপে রাখবেন। তাছাড়া ব্রেন এর কাজ হচ্ছে ক্রিয়েটিভ ভাবে চিন্তা না করা নতুন নতুন আইডিয়া বের করা কোন কিছু মুখস্থ রাখা নয়। আপনার আপকামিং মিটিং, টাস্ক, বাসার বাজারের লিস্ট ফোনের নোট প্যাডে লিখে রাখুন।

লিখে রাখার অনেক ধরনের অ্যাপ স্মার্টফোনের জন্য এভেইলেবল আছে। আপনি Google Tasks ব্যবহার করতে পারেন। সেখানে আপনি ক্যালেন্ডার আকারে আপনার আপকামিং প্রজেক্ট, মিটিং, টাস্ক সেভ করে রাখতে পারবেন।

৩. চিন্তা ভাবনা বা কাজের পিক আওয়ার খুঁজে বের করুন

আমরা সারাদিন অনেক ব্যস্ত থাকি, অনেক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। স্বাভাবিক ভাবেই দিনের সবটা সময় আমরা ক্রিয়েটিভ চিন্তা বা একই রকম কর্মক্ষমতা পাই না। এটা খুবই স্বাভাবিক একটা বিষয়। আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে আপনি কোন সময় বেশি প্রোডাক্টিভ থাকুন।

বিশেষজ্ঞদের মতে সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২:৩০ পর্যন্ত মানুষের প্রোডাক্টিভিটি সবচেয়ে বেশি থাকে। এই সময়টিতে সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করুন, গুরুত্বপূর্ণ এবং বেশি দরকারি কাজ গুলো এই সময়ে করুন। যে কাজ গুলোর মাধ্যমে আপনার প্রোমোশন হবে আপনার প্রতি ভাল ইম্প্রেশন তৈরি হবে সেই কাজ গুলো এই সময়ে করার চেষ্টা করুন। এই সময়কে একেক জনের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতেই পারে তাই আপনার পিক আওয়ার খুঁজে বের করার দায়িত্ব আপনার।

৪. কি কি করবেন সেটা আগের রাতেই সেট করে ঘুমান

এটা প্রোডাক্টিভিটি বাড়ার অন্যতম কার্যকরী একটা হ্যাক। আগামী কালকে কি কি করবেন সেটা আজকে রাতে ঘুমানোর পূর্বের সেট করে নিন। আগামী কালকে কতটুকু প্রজেক্ট শেষ করবেন কত কিলোমিটার দৌড়াবেন সব কিছু নির্দিষ্ট করে ফেলুন এবং অবশ্যই পরের দিন এই লক্ষ্য ফুল ফিল করুন।

৫. প্রতিদিন ১০ মিনিট নিজের মনের দিকে ফোকাস করুন

সকাল বেলা আমাদের মধ্যে কোন ক্লান্তি বা পরিশ্রম থাকে না এই সময় আমাদের সবার মন ফ্রেশ থাকে। এই সময়টি মনোযোগ দিয়ে ভাবার সময়। প্রতিদিন সকালে ১০ থেকে ১৫ মিনিট কফি খাওয়ার সময় নিজেকে রিলেক্স করুন, ভাবুন। নিজের লক্ষ্য গুলো নিয়ে ভাবুন, কিভাবে আরও ভাল করা যায় চিন্তা করুন। হতে পারে ভাল কোন আইডিয়া মাথায় চলে আসতে পারে।

কয়েক বছর আগের কোন সফল ঘটনা মনে পড়ে যেতে পারে কোন বইয়ের কোন গল্প মনে পড়ে যেতে পারে যার মাধ্যমে আপনি চিন্তাকে আরও বেগবান কর‍তে পারেন। একে সেলফ মেন্টরিং বলা যেতে পারে।

৬. ইনভেস্টমেন্ট এবং পে বিলে অটোমেশন যুক্ত করুন

প্রযুক্তি অনেক এগিয়েছে, আমাদের কাজ অনেক সহজ হয়েছে। যে কাজ গুলো অটোমেশনে করা যায় সেগুলো ম্যানুয়ালি করে সময় নষ্ট না করাই ভাল। যেমন বিভিন্ন বিল পে করা বেশ ঝামেলার কাজ। কখনো কখনো করব করব করে করা হয় এবং জরিমানা গুণতে হয়। সুতরাং বিল পে এর ক্ষেত্রে অটোমেশন পদ্ধতি অবলম্বন করুন।

একই কাজ ইভেস্টমেন্টের ক্ষেত্রেও আপনি করতে পারেন। কখন মার্কেট আপ হচ্ছে ডাউন হচ্ছে এত কিছু দেখার সময় আপনার নাও থাকতে পারে। সুতরাং অটোমেশন সেট করে দিন। কোন প্যারামিটারে কি করবেন ঠিক করে দিন। যেমন দাম ১০% কমলে একটা সিদ্ধান্ত দিয়ে রাখতে পারেন আবার বাড়লে আরেকটা সিদ্ধান্ত হতে পারে।

৭. ভোগে লাগাম দিন

পৃথিবীতে ভাল থাকতে হলে আপনাকে অবশ্যই একটা লিমিটের মধ্যে থাকতে হবে। খেতে ভাল লাগে বলে মাত্রাতিরিক্ত খাওয়া যাবে না সিনেমা দেখতে ভাল লাগে অধিক টাইম সিনেমা দেখে অযথা সময় ব্যয় করা যাবে না। সুযোগ আপনার থাকতেই পারে তাই বলে সব ব্যবহার করা যাবে না।

বলছি না জীবন থেকে খাওয়া দাওয়া, বিনোদন দূরে সরিয়ে দিন, অবশ্যই এগুলো করতে হবে কারণ এগুলো জীবনের অংশ, তবে লিমিটের মধ্যে। অতিরিক্ত ফ্যাট জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না, দিনে ৫০ মিনিটের বেশি মুভি, বা সিরিজ দেখা যাবে না। আপনি যত বেশি কন্ট্রোলের মধ্যে থাকবেন সেটা আপনার জন্য তত ভাল হবে।

৮. কোয়ান্টেকটিউনস নয় কোয়ালিটিকে গুরুত্ব দিন

আমরা সবাই জানি কোয়ালিটি এবং কোয়ান্টেকটিউনস এক সাথে বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়। দুইটা থেকে যেকোনো একটিকে অবশ্যই সেক্রিফাইস করতে হবে। যা করবেন সেটাতে কোয়ালিটি মেইনটেইন করুন।

কম দামে দুইটা কেনার চেয়ে একই দামে একটা কিনুন। যদি সামর্থ্য থাকে তাহলে দামী এবং সস্তা দুটি জিনিসের মধ্যে অবশ্যই কোয়ালিটি পণ্য যদি দামী হয় সেটিই কিনুন। এবং রুলটি পোশাক, খাবার, ফার্নিচার যেকোনো কিছু কেনার ক্ষেত্রে এপ্লাই করুন।

৯. না বলতে শিখুন

সব কিছুতে সব ক্ষেত্রে হ্যাঁ বলতে যাবেন না, যে দায়িত্ব আপনি নিতে পারবেন না সেটা সরাসরি না করে দিন। আপনার অসুবিধা হবে কিন্তু অন্যের ভালর জন্য হ্যাঁ বলে যদি বিপদে পড়েন তাহলে এর কোন মানে হতে পারে না। জীবন সীমিত আপনার সময় সীমিত আপনার যা করতে ভাল লাগে সেটাই করুন কারো মন রক্ষার জন্য করার দরকার নেই।

সোশ্যাল গ্যাদারিং, নতুন প্রজেক্টে হ্যাঁ বলে, যদি সেটা ইঞ্জয় না করতে পারেন, এবং ঠিক মত না করতে পারেন তাহলে সেটা আমার ইমেজ কে নষ্ট করতে পারে। সুতরাং সোজাসাপটা ভাবে না বলতে শিখুন।

১০. জীবনের নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন

সফলতা পেতে হলে এবং প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে হলে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য সেট করুন। এবং সেটা অর্জনের জন্য কাজ করুন। বার বার লক্ষ্য পরিবর্তন করলে সেটা আপনার সময় প্রোডাক্টিভিটি উভয়কেই নষ্ট করবে।

প্রতিদিন যেখানে যাচ্ছেন যা যা করছেন সব কিছু যেন নির্দিষ্ট একটা লক্ষ্যকে কেন্দ্র করেই হয়। লক্ষ্যে নির্দিষ্ট করুন আপনি কোন পর্যন্ত যাবেন, ইতিমধ্যে কতটুকুতে পৌঁছেছেন এবং কতটুকু বাকি আছে। সফল ব্যক্তিরা নিজেদের লক্ষ্য বার বার পরিবর্তন করে না তারা এক লক্ষ্য নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়।

১১. প্রতিদিন অন্তত একটা কাজ সম্পন্ন করুন

কোন কাজে সফলতা পেতে হলে সুপার হিউম্যান হতে হয়ে না স্ট্রেটেজিক ভাবে এগিয়ে গেলেই হয়। আপনার লক্ষ্য যাই থাকুক প্রতিদিন অন্তত একটা টাস্ক কমপ্লিট করার চেষ্টা করুন। আজকের কাজ কখনো আগামী কালের জন্য ফেলে রাখবেন না।

এভাবে প্রতিদিনে নির্দিষ্ট কাজ প্রতিদিন করতে পারলে আপনি একটা সময় লক্ষ্যের একবারে কাছে চলে আসবেন।

১২. কাজের মধ্যে মিউজিক শুনুন

একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে তবে এক্সপার্টরা বলে মিউজিক আপনার কাজের প্রোডাক্টিভিটি বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে সব মিউজিক এ ক্ষেত্রে কাজ করবে না, এজন্য আলাদা মিউজিক সিলেক্ট করতে হবে। প্রায় সকল মিউজিক স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম গুলোতেই আপনি Productivity নামে আলাদা একটা ক্যাটাগরি পাবেন, সেই মিউজিক গুলো আপনি কাজের সময় শুনতে পারেন। এই ক্যাটাগরির আরও সাবক্যাটেগরিও থাকতে পারে।

মিউজিক শুনবেন কি শুনবেন না এটা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত বিষয় কারণ সবাই মিউজিক প্রেফার করে না। এখন আপনি যদি অভ্যস্ত না হোন তাহলে এটা আপনার ক্ষেত্রে নাও কাজ করতে পারে।

১৩. খাবার দাবার এবং ঘর পরিষ্কার

আপনি যদি উন্নত বিশ্বে বসবাস করেন তাহলে এই হ্যাকটি আপনার জন্য। আমরা প্রতিদিন বাজার করতে এবং রান্না করতে প্রচুর সময় ব্যয় করি এবং অনেকে এটা করতে পছন্দও করি কিন্তু আপনি প্রোডাক্টিভিটির কথা ভাবেন তাহলে অনেক টাইম কনসিউমিং একটা কাজ। সেক্ষেত্রে আপনি প্রতিদিন ফুড অর্ডার করতে পারেন। সকালে নির্দিষ্ট সময় একবার খাবার দিয়ে যাবে রাতে আবার দিয়ে যাবে। তবে আপনার যদি প্রতিদিন অর্ডার করে খাওয়ার মত সামর্থ্য না থাকে তাহলে সপ্তাহে একদিন বেশি করে বাজার করে ফেলতে পারেন এবং বেশি করে একদিন রান্না করে রাখতে পারেন, যা প্রতিদিন খাবেন। তবে এই বিষয়টি একান্তই আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার কারণ খাবার দাবারের ব্যাপারে আমরা একটু বেশি খুঁতখুঁতে।

রান্নার মতই ঘর পরিষ্কার করা বেশ সময় সাপেক্ষ একটি কাজ, এক্ষেত্রে আপনি ঘরে বিভিন্ন স্মার্ট ডিভাইস রাখতে পারেন অথবা লোকাল ক্লিনিং সার্ভিস ব্যবহার করতে পারেন।

১৪. লোভনীয় জিনিস লাইফের দূরে রাখুন

আপনার সফলতা নির্ভর করে সঠিক ও সুন্দর এনভায়রনমেন্ট এর উপর। উপযুক্ত আলো বাতাসে একটা গাছ সুন্দর ভাবে বেড়ে যেভাবে উঠে তেমনি আপনার চারপাশের পরিবেশও এমন ভাবে তৈরি করবেন যেন সেটা আপনাকে সঠিক দিকে ধাবিত করে। একটা উদাহরণ দেয়া যাক, ধরুন আপনার লক্ষ্য হচ্ছে ওজন কমানো, সেক্ষেত্রে আপনার খাবার টেবিলে কখনো চকোলেট রাখবেন না কারণ, আপনি দেখা মাত্রই সেটা খাবেন এখানে আপনার কন্ট্রোল থাকবে না।

এমন লাইফ থেকে এমন লোভনীয় বিষয় গুলো দূরে রাখুন যা আপনাকে সাফল্যের থেকে ডিসট্রাক্ট করতে পারে।

১৫. পোশাক পরিচ্ছদ

কোন পোশাক পড়বেন এটা নিয়ে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা যাবে না। মার্জিত এবং কোয়ালিটি ফুল পোশাক কেনার চেষ্টা করুন। তাছাড়া নিশ্চিত হোন কোন পোশাকে আপনাকে বেশি ভাল লাগছে। সবচেয়ে বড় কথা যে পোশাকে আপনি নিজেকে সবচেয়ে সুন্দর মনে করবেন সেটা কিনুন বা পড়ার চেষ্টা করুন। এতে করে আপনার আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি একই সাথে প্রোডাক্টিভিটিও।

আমরা অনেকে আছি যারা কোথাও বের হবার আগে কোন পোশাক পড়ব সেটা নিয়ে দ্বিধায় থাকি এবং পছন্দমত বাছাই করতে অনেক সময় চলে যায়। যা আপনার প্রোডাক্টিভিটির বাড়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হতে এক্ষেত্রে আপনি দুইটা কাজ করতে পারেন, হয় স্টিভ জবস বা জাকারবার্গের মত এক পোশাক প্রতিদিন পড়ুন অথবা Capsule Wardrobe তৈরি করে নিন।

ব্যাসিক পোশাক যেগুলো আপনি প্রতিনিয়ত পড়েন সেগুলো আলাদা করে ওয়ারড্রবে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে ক্যাপসুল ওয়ারড্রব। প্রথমে ভেবে চিন্তে একটা ক্যাপসুল ওয়ারড্রব তৈরি করে নিলে সিদ্ধান্ত নিতে সময় হবে না। ক্যাপসুল ওয়ারড্রবে, কিছু ক্যাজুয়াল ড্রেস যা আপনি প্রতি পড়েন, ফর্মাল ড্রেস, রেখে দিতে পারেন। নিজের ক্যাপসুল ওয়ারড্রব তৈরি করতে, Capsule Wardrobe লিখে গুগলে সার্চ করুন, ওয়ারড্রব তৈরির দারুণ সব আইডিয়া পেয়ে যাবেন।

তবে ছোট একটা আইডিয়া দিতে পারি, মুল ওয়ারড্রব থেকে আপনার সব গুলো কাপড় নিন। অফিসে বা ফর্মাল জায়গায় যে পোশাক গুলো পড়েন সেগুলো আলাদা করুন এবং ক্যাজুয়াল ইউজের গুলো আলাদা করুন। প্রথমে ক্যাজুয়াল ইউজের জন্য আপনার এক সেট পোশাক তৈরির পালা। আপনি যদি ক্যাপ পড়েন, তাহলে ভেবে দেখুন গত তিন চার মাসে কোন ক্যাপটি বেশি ব্যবহার করেছেন। বেশি ব্যবহৃত ক্যাপটি ক্যাপসুল ওয়ারড্রবে রাখুন, বেশিবার ব্যবহার করা এভাবে টি-শার্ট, প্যান্ট আলাদা করে ক্যাপসুল ওয়ারড্রবে রেখে দিন। একই সাথে ম্যাচ হয় এমন অতিরিক্ত প্যান্ট ও রাখতে পারেন। ফর্মাল ড্রেসআপের ক্ষেত্রেও একই স্ট্রেটেজি, পছন্দের স্যুট, টাই, শার্ট, জুতা আলাদা করে ক্যাপসুল ওয়ারড্রব তৈরি করুন।

১৬. নিজেকে বিশ্রাম দিন

নিজের প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে অবশ্যই নিজেকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিন। আপনি মানুষ, কোন মেশিন না, মেশিনেরও নির্দিষ্ট সময় পর বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। তবে অনেকে রেস্ট মানে কি সেটা বুঝে না। অনেকে রেস্ট মানে ভাবে উইকেন্ডে কোথাও ঘুরতে যাওয়া বা বিশ্রাম করা।

এটাকে আমি রেস্ট বলব না একদিন অথবা দুইদিন বিশ্রাম করে আবার আপনি কাজের ক্লান্তিকর লাইফে ফিরে যাচ্ছেন এটা যথেষ্ট বিশ্রাম না। বিশ্রামের ক্ষেত্রে আপনাকে সিংহের স্ট্রেটেজি অবলম্বন করতে হবে। সিংহ যখন শিকার করে তখন ননস্টপ দৌড়াতে থাকে যখন এবং শিকারের পর রেস্ট করে। আপনারও রেস্টও হবে এমন যখন কাজ করবেন পূর্ণ গতিতে কাজ করবেন, রেস্টের সময় পর্যাপ্ত রেস্ট নেবেন যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি আগের কর্মক্ষমতায় না পৌঁছচ্ছেন।

শেষ কথা

লাইফে পরিশ্রম করার চেয়ে প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একমাত্র প্রোডাক্টিভ ভাবে কাজ করলেই কেবল সহজে সফলতা পাওয়া যায়। আশা করছি এই টিউনের উল্লেখিত হ্যাক গুলো আপনার প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে সাহায্য করবে।

তো আজকে এই পর্যন্তই কেমন লাগল এই টিউনটি জানাতে ভুলবেন না পরবর্তী টিউন পর্যন্ত ভাল থাকুন। আল্লাহ হাফেজ।


#১৬ #ট #একবরর #সদধনত #আপনর #পরডকটভট #বদধ #করব #১০০ #গণ #Techtunes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *