Durud Sharif Bangla : দুরুদ শরীফ বাংলা উচ্চারণ

ইন্টারনেট ইলেক্ট্রনিক্স কম্পিউটার কম্পিউটার ও ল্যাপটপ জানুন প্রযুক্তি


দুরুদ শরীফ (Durud Sharif) দরুদ শরীফ নামেও পরিচিত। দরূদ শরীফ এর অর্থ আমাদের
প্রিয় নবী মোহাম্মদ (সাঃ) এর প্রশংসা ও সম্মান করা। দরূদ হল এক প্রকার দোয়া
এবং দোয়া যা আমরা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কাছে প্রেরণ করি। কুরআনে আল্লাহ
বলেছেন, তিনি এবং তাঁর ফেরেশতারা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম) এঁর প্রতি দরূদ পাঠিয়েছেন এবং আমাদের হুকুম দিয়েছেন আমাদের নবী
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এঁর প্রতি দুরুদ শরীফ (Durood Sharif)
পাঠাতে।

Durud Sharif Bangla : দুরুদ শরীফ বাংলা উচ্চারণ

ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদতের মধ্যে একটি হল নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এঁর উপর দরুদ
পাঠ করা অর্থাৎ দুরুদ শরীফ পাঠ করা। আপনি যত বেশি দুরূদ শরীফ পাঠ করবেন,
ইহকাল ও পরকালে আপনি তত বেশি পুরষ্কার পাবেন, ইনশাআল্লাহ। যখনই একজন মুসলমান
প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নাম পাঠ করে, কথা
বলে বা শোনে তখন দুরুদ (আমাদের প্রিয় নবীর উপর আশীর্বাদ প্রেরণ) পাঠ করা
একজন মুসলমানের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

এই পোষ্টে আমরা Durud Sharif Bangla অর্থ এবং দুরুদ শরীফ বাংলা উচ্চারণ সহ দরুদ
শরীফ এর উপকারিতা এবং গুরুত্ব সহ সেরা এবং সংক্ষিপ্ত কয়েকটি দুরূদ শরীফের শেয়ার
করব।  আপনি যদি আরবি পড়া না জানেন তারপরও এখান থেকে আরবি দুরুদ এর উচ্চারণ
বাংলায় করতে পারবেন।

আরো পড়ুন—

দরুদ শরীফ (Durud Sharif) কি?

দুরুদ শরীফ মানে সালাম ও আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম এর উপর সালাম জানানো। এটি আরবী এবং ইসলামী শরীয়তে সালাওয়াত বা একক
সালাত নামেও বেশি পরিচিত। দরূদ কোন আরবি বা ইসলামী পরিভাষা নয়। প্রিয় নবী হযরত
মোহাম্মদ (সাঃ) এঁর উপর দরুদ শরীফ (Durud Sharif) প্রেরণ করার জন্য ইসলামে
উৎসাহিত করা সবচেয়ে বড় ইবাদতগুলোর মধ্যে একটি এবং এটি দুনিয়া ও আখেরাতে একজন
ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে উপকারী ইবাদতগুলোর মধ্যে একটি।

Durud Sharif : দুরুদ শরীফ আরবী

اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ
عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ-
اَللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ
عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ
مَّجِيْدٌ

Durud Sharif Bangla : দুরুদ শরীফ বাংলা উচ্চারণ

আল্লহুম্মা ছাল্লি আ’লা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আ’লা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা
ছাল্লাইতা আ’লা ইব্রাহীমা ওয়া আ’লা আ-লি ইব্রহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজী-দ্।
আল্লাহুম্মা বারিক্ আ’লা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আ’লা আ’লি মুহাম্মাদিন, কামা
বা-রাকতা আ’লা ইব্রাহীমা ওয়া আ’লা আ’লি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামিদুম মাজীদ।

দুরুদ শরীফ বাংলা অর্থ

হে আল্লাহ, দয়া ও রহমত করুন হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর প্রতি এবং তার বংশধরদের
প্রতি, যেমন রহমত করেছেন হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও তার বংশধরদের উপর। নিশ্চই আপনি
উত্তম গুনের আধার এবং মহান। হে আল্লাহ, বরকত নাযিল করুন হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর
প্রতি এবং তার বংশধরদের প্রতি, যেমন করেছেন হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও তার বংশধরদের
উপর।নিশ্চই আপনি প্রশংসার যোগ্য ও সম্মানের অধিকারী।

দুরুদ শরীফ পড়ার উত্তম সময়

  • নামাযের শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদ পাঠ করার পর।
  • জানাযার নামাজে ২য় তাকবীর বলার পর।
  • জুম্মার দিবসে।
  • প্রত্যেক আজান শেষ হওয়ার পর।
  • মসজিদে প্রবেশের পূর্বে এবং বের হওয়ার পূর্বে।
  • সাফা ও মারওয়া সায়ী করার সময়।
  • কোন মজলিস থেকে আলাদা হওয়ার পূর্বে।
  • প্রত্যেহ সকাল থেকে সন্ধা।
  • পাঠ শুরু করার পূর্বে এবং শেষ করার পূর্বে।
  • দু’আ বা মুনাজাত করার সময়।

দুরূদ শরীফের ফজিলত

সূরা আম্বিয়ার ১০৭ নং আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন- আমি আপনাকেই (নবী সাঃ) শুধুমাত্র
সমগ্র বিশ্ব জাহানের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি। যিনি আমাদের জন্য রহমত। তাই
প্রতিক্ষণ পাঠকদের জন্য দরূদ পাঠের ফজিলত তুলে ধরা হলো। আমাদের প্রিয় হযরত
মোহাম্মদ (সাঃ) নিজেই বলেছেন, কিয়ামতের দিন আমার সঙ্গী হওয়ার সবচেয়ে অধিক উপযুক্ত
ঐ ব্যক্তি যে আমার প্রতি সবচেয়ে বেশি দুরুদ শরীফ পাঠ করে।

এই সাহাবি হতে বর্ণিত, হজরত রসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
আল্লাহপাকের মনোনীত কিছুসংখ্যক ফেরেস্তা রয়েছে যারা জমিনের বুকে সফর করছেন। তাদের
কাজ হলো উম্মতের দরুদ আমার নিকট পৌঁছে দেওয়া। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত,
রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ
করে, আল্লাহপাক তার প্রতি দশটি রহমত নাজিল করেন, তার দশটি গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হয়
এবং তার জন্য দশটি মর্তবা বুলন্দ করা হয়। দুরুদ শরীফ পাঠের উপকারীতা বলে শেষ করা
যাবে। নিচের কয়েকটি উপকারীতা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-

  1. যে ব্যক্তি তার সারা জীবনে সর্বাধিক সংখ্যক দুরূদ পাঠ করবে সে কিয়ামতের দিন
    হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সবচেয়ে কাছের হবে।
  2. যে ব্যক্তি প্রতিবার দুরূদ পাঠ করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তার উপর ১০
    টি রহমত বর্ষণ করেন।
  3. এটা পাপের মেয়াদ শেষ করে।
  4. এটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার রহমত লাভের একটি মাধ্যম।
  5. যে ব্যক্তি দুরূদ শরীফ পাঠ করবে তার ১০ টি মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে, ১০ টি গুনাহ
    মাফ করা হবে এবং ১০ টি নেকী লেখা হবে।
  6. দুরূদ শরীফ পাঠ করলে দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও কষ্ট লাঘব হয়।
  7. প্রতিদিন দুরূদ শরীফ পাঠ করলে অন্তর পবিত্র হয়।
  8. দুরূদ শরীফ পাঠ করলে এটি দুআ কবুলের উৎস।
  9. যে ব্যক্তি দুরূদ শরীফ পাঠ করবে তার কষ্ট দূর হবে।
  10. দুরূদ পাঠ আপনাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাঃ) এর নিকটবর্তী করবে।

শেষ কথা

একমাত্র দুরুদ শরীফ পাঠ হচ্ছে আমাদের প্রিয় নবী মোহাম্মদ (সাঃ) এঁর ভালোবাসা
অর্জন করার শ্রেষ্ট মাধ্যম। আমাদের প্রিয় নবী সারা জীবন উম্মত উম্মত করে গেছেন।
কাজেই সকল মুসলমান ভাই বোনের উচিত নবীজীকে সম্মান জানানো। আর নবীজীকে সম্মান
জানানোর সর্বত্তোম মাধ্যম হচ্ছে বেশী করে দুরুদ শরীফ (Durud Sharif) পাঠ করা।




#Durud #Sharif #Bangla #দরদ #শরফ #বল #উচচরণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *